চুলের যত্নের ১৫টি টিপস করুন ঘরে বসেই।

বর্তমানে চুল ঝরা একটি খুব কমন সমস্যা হয়ে পড়েছে। তাই চুল পড়া মোকাবেলায় সাহায্য করার জন্য এখানে 15টি অতিরিক্ত ঘরোয়া প্রতিকার এবং টিপস শেয়ার করা হয়েছে।

  1. ইন্ডিয়ান গুজবেরি (আমলা): শুকনো ভারতীয় গুজবেরি টুকরো নারকেল তেলে সেদ্ধ করুন যতক্ষণ না তারা পুড়ে যায়। তেল ঠান্ডা হতে দিন, তারপর শোবার আগে আপনার মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। পরদিন সকালে চুল ধুয়ে ফেলুন। আমলা চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
  2. মেথি বীজ: মেথি দানা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। আপনার মাথার ত্বকে এবং চুলে পেস্টটি লাগান, ধুয়ে ফেলার আগে প্রায় 30 মিনিটের জন্য রেখে দিন। মেথি বীজ প্রোটিন এবং নিকোটিনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা চুল পড়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
  3. গ্রিন টি: গ্রিন টি তৈরি করে ঠান্ডা হতে দিন। আপনার চুল শ্যাম্পু করার পরে এটিকে চূড়ান্তভাবে ধুয়ে ফেলুন। গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা চুলের স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি এবং চুল পড়া কমাতে পারে।
  4. হিবিস্কাস: সামান্য জল দিয়ে হিবিস্কাস ফুল এবং পাতা পিষে একটি পেস্ট তৈরি করুন। আপনার মাথার ত্বকে এবং চুলে পেস্টটি লাগান, ধুয়ে ফেলার কয়েক ঘন্টা আগে রেখে দিন। হিবিস্কাসের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি চুলের ফলিকলকে পুষ্ট করতে সহায়তা করে।
  5. নারকেল দুধ: তাজা নারকেল দুধ বের করে আপনার মাথার ত্বকে লাগান। ধুয়ে ফেলার আগে এটি প্রায় 30 মিনিটের জন্য রেখে দিন। নারকেলের দুধে প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে যা চুল পড়া কমাতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে।
  6. অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার (ACV=Apple Cider Vinegar) ধুয়ে ফেলুন: দুই টেবিল চামচ ACV এক কাপ পানির সাথে মিশিয়ে শ্যাম্পু করার পরে এটিকে চূড়ান্তভাবে ধুয়ে ফেলুন। ACV আপনার মাথার রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে এবং স্বাস্থ্যকর চুলের বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত তাজা বিটরুটের রস পান করুন।
  7. বিটরুট জুস: রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে এবং স্বাস্থ্যকর চুলের বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত তাজা বিটরুটের রস পান করুন।
  8. লিকোরিস রুট: লিকোরিস রুট দুধের সাথে পিষে একটি পেস্ট তৈরি করুন এবং আপনার মাথার ত্বকে লাগান। সারারাত রেখে পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন। লিকোরিস রুটের প্রশান্তিদায়ক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং চুলের ফলিকলগুলিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
  9. নিম পাতা: নিম পাতা পানিতে সেদ্ধ করুন যতক্ষণ না পানি অর্ধেক কমে যায়। এটিকে ঠান্ডা হতে দিন, তারপর নিম-মিশ্রিত জল দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে ফেলুন। নিমের অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মাথার ত্বকের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।
  10. আঁটসাঁট চুলের স্টাইল এড়িয়ে চলুন: চুলের স্টাইল এড়িয়ে চলুন যা আপনার চুলে শক্তভাবে টানছে, যেমন পনিটেল বা বান। এই ধরনের চুলের স্টাইল চুল ভেঙে যেতে পারে এবং চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
  11. মৃদু চুলের যত্ন: চুল ধোয়া এবং আঁচড়ানোর সময় নম্র হন। চুল বিচ্ছিন্ন করতে একটি চওড়া দাঁতযুক্ত চিরুনি ব্যবহার করুন এবং শুকানোর সময় তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষা এড়ান।
  12. হাইড্রেটেড থাকুন: আপনার শরীর এবং চুল হাইড্রেটেড রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। স্বাস্থ্যকর চুলের বৃদ্ধির জন্য হাইড্রেশন অপরিহার্য।
  13. অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলুন: ব্লো ড্রায়ার, কার্লিং আয়রন এবং স্ট্রেইটনারের মতো তাপ-স্টাইলিং সরঞ্জামগুলির ব্যবহার কম করুন। অতিরিক্ত তাপ চুলের ক্ষতি করে এবং চুল পড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
  14. কঠোর রাসায়নিক এড়িয়ে চলুন: হালকা এবং প্রাকৃতিক চুলের যত্নের পণ্যগুলি ব্যবহার করুন যা সালফেট এবং প্যারাবেনের মতো কঠোর রাসায়নিক থেকে মুক্ত। কঠোর রাসায়নিক প্রাকৃতিক তেল দূর করতে পারে এবং চুলকে দুর্বল করে দিতে পারে।
  15. নিয়মিত ব্যায়াম: মাথার ত্বক সহ রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত হন, যা চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এবং চুল পড়া কমাতে পারে।

 

মনে রাখবেন, প্রত্যেকের চুল আলাদা আলাদা, এবং এক ব্যক্তির জন্য যা কাজ করে তা অন্যের জন্য কাজ নাও করতে পারে। এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি চেষ্টা করার সময় ধৈর্যশীল এবং ধারাবাহিক হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি গুরুতর চুল পড়ার সম্মুখীন হন বা অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যের অবস্থার সম্মুখীন হন তবে উপযুক্ত নির্দেশনা এবং চিকিত্সার জন্য একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করুন।

 

About Shohel Shikder

Check Also

Why Change the logo NOKIA?

Why Change the logo NOKIA?

Why Change the logo NOKIA? Nokia has changed its logo several times throughout its history. …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *