আপনার বিজনেস পেজটি কি প্রফেশনালি সাজানো

আপনার বিজনেস পেজটি কি প্রফেশনালি সাজানো?

চলুন জেনে নেই প্রফেশনাল বিজনেস পেজ কি কি থাকা প্রয়োজন –

[বড় বলে এড়িয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় মিস করবেন]

প্রথমেই জানবো আপনার ফেইসবুক বিজনেস পেইজ কেন প্রফেশনাল হওয়া প্রয়োজন?

একটা পরিস্থিতি চিন্তা করুন আপনি মার্কেটে গিয়েছেন কেনাকাটা করার জন্য। যখন আপনি প্রতিটি শপের সামনে দিয়ে হেঁটে যান তখন যেই শপটা আপনার চোখে ভালো লাগে বা সাজানো লাগে আপনি কিন্তু সেই শপেই প্রবেশ করেন কেনাকাটার জন্য। তারপর যদি সেই শপের স্টাফদের ওয়েলকাম আপনার ভালো লাগে তারপর আপনি প্রোডাক্ট দেখা শুরু করেন এবং আপনার পছন্দ এবং বাজেটের সাথে মিললে আপনি সেখান থেকে ফাইনালি কেনাকাটা শেষ করেন। তো একই বিষয়টি কিন্তু আপনার ফেসবুক বা ফেসবুক শপেও ঘটে। এক্ষেত্রে আরও বেশি ঘটে কারন ক্রেতা আপনার শপ বা পণ্যটি শুধুমাত্র মোবাইলের স্ক্রিনে দেখছে।

বর্তমানে এফ কমার্স ভিত্তিক বিজনেসে একই প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস করছে এমন শত শত ফেইসবুক পেইজ ক্রেতারা পাচ্ছে। তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রোডাক্ট কেনার ক্ষেত্রে তারা সেই পেইজ থেকেই কিনবে যেটা দেখে প্রফেশনাল মনে হয় এবং যে পেইজের সবকিছু সাজানো গোছানো। আর এছাড়া অনলাইনেতো প্রতারণা হরহামেশাই হচ্ছে সেই জায়গায় থেকে প্রফেশনালি এবং সুন্দরভাবে সাজানো পেইজ ছাড়া ক্রেতারা আস্থা রাখতে পারেনা।

আর যেকোনো খাতেরই নিয়ম হলো প্রতিযোগী যত বাড়বে আপনাকে টিকে থাকতে তত বেশি যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে, ফেইসবুক বিজনেসের ক্ষেত্রে তাই ঘটছে। একটা তথ্য তুলে ধরলে খুব সহজে আপনারা বুঝতে পারবেন এই সেক্টরে প্রতিযোগীতা কতটা বেড়েছে। ২০১৭ সালে একটা গবেষণা সংস্থার জরিপে উঠে এসেছিলো বাংলাদেশে ফেইসবুক ভিত্তিক বিজনেসের সংখ্যা ৮ – ১০ হাজারের মতো। আবার একই গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ২০১৯ এর শেষের দিকে আরেকটি জরিপ পরিচালনা করে এবং তার ফলাফল অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশে ফেইসবুক ভিত্তিক বিজনেসের সংখ্যা ছোট-বড় মিলিয়ে ৩ লক্ষ্যের মতো। এবং এই জরিপে আরো কিছু তথ্য উঠে আসে তা হলো এই ফেইসবুক ভিত্তিক বিজনেসগুলোর ক্ষেত্রে একটা কমন ব্যাপার হলো নতুন করে শুরু করা বিজনেসগুলোর মধ্যে শতকরা ৮০- ৯০ ভাগ বিজনেসই শুরুর এক বছরের মধ্যেই ঝরে পড়ে শুধুমাত্র বেশ কিছু কৌশলগত বিষয় অবলম্বন না করা এবং প্রফেশনালিজমের অভাবে।

তাই এই সেক্টরে আমাদের টিকে থাকতে হলে নিজের বিজনেসের লয়াল্টি এবং প্রফেশনালিজম এর স্বাক্ষর রাখা খুবই জরুরী । আর এক্ষেত্রে আপনার বিজনেস যেহেতু গড়ে উঠবে ফেসবুক পেজকে কেন্দ্র করে তাই প্রথমে ফেসবুক পেজের প্রফেশনাল লুক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এখন প্রশ্ন হলো একটা ফেইসবুক বিজনেস পেইজ প্রফেশনাল হতে হলে তা কেমন হওয়া উচিত?

আসলে একটা ফেইসবুক বিজনেস পেইজকে প্রফেশনাল লুক দিতে বেশ কিছু বিষয়ের প্রতি নজর দিতেই হবে তাই সে বিষয়গুলো নিয়েই নিচে আলোচনা করা হবে, আর হ্যা লেখাটা একটু বড় হয়ে যাচ্ছে ।আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে এতটুকু না লিখলেই না । আশা করি ধৈর্য ধরে পুরোটা পড়ে শেষ করবেন। যাইহোক মূল কথায় ফেরা যাক যা বলছিলাম একটা ফেইসবুক বিজনেস পেইজকে প্রফেশনাল করে তুলতে যেসব বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে তা হলো-

পেইজ নেইম / ব্র্যান্ড নেইমঃ

আসলে বিজনেস অনলাইন ভিত্তিক হোক আর অফলাইন ভিত্তিক হোক নাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় আর ফেইসবুক ভিত্তিক বিজনেসের ক্ষেত্রে শ্রুতিমধুর, সহজ বানান এবং সহজে মনে রাখা যায় তবে কিছুটা আনকমন এই ধরণের একটা নাম নির্বাচন করা উচিত। সহজ বানান এবং সহজে মনে রাখা যায় এই ধরণের নাম এই জন্য নির্বাচন করা উচিত যেনো ক্রেতারা সার্চ করে সহজে আপনার বিজনেস পেইজটি খুঁজে পায়। এ সম্পর্কে আরো জানার জন্য নাম নির্বাচনের বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে আমার আগের পোস্টটি পড়ে নিতে পারেন।

প্রফেশনাল লোগোঃ

আসলে লোগো এমন একটা চিহ্ন যেটা সবজায়গায় আপনার বিজনেসকে রিপ্রেজেন্ট করে তাই লোগোটা হওয়া উচিত প্রফেশনাল। এবং আপনার বিজনেস পেইজের প্রোফাইল ফটোতে আপনার বিজনেসের লোগো দিয়ে রাখুন। উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি অনেকের বিজনেস পেইজেই দেখেছি প্রোফাইলে লোগো দেয়া নেই আবার অনেকের দেয়া রয়েছে কিন্তু সেটা কোনোভাবেই একটা প্রফেশনাল লোগো না। এমনও দেখা যায় অনেকে মোবাইল ফোন দিয়ে কোনোভাবে একটি লোগো নিজে তৈরি করে পেইজে দিয়ে রেখেছেন যেটা মোটেও প্রফেশনাল না এবং ক্রেতারা এই ধরণের বিজনেস পেইজের উপর তেমন একটা আস্থা রাখতে পারেনা। তাই এটা নিশ্চিত করবেন যে আপনার পেইজ প্রোফাইলে যেনো প্রফেশনালি ডিজাইন করা লোগো দেয়া থাকে এক্ষেত্রে প্রয়োজনে দক্ষ এবং অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন। এবং লোগো নিয়েও আমার কয়েকটা পোস্ট আছে চাইলে পড়ে নিতে পারেন।

প্রফেশনাল কভার ফটো/ভিডিওঃ

পেইজে ঢোকার পর প্রথমে যেটা চোখে পড়ে সেটা হলো পেইজের কভার ফটো। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কোন বিলবোর্ড দেখলে আপনি যেমন দাড়িয়ে দেখেন এখানেও তেমন। একটা প্রফেশনাল বিজনেস পেইজের কভার ফটো হবে ক্লিয়ার এবং গ্রাফিক্যালি স্মুথ। এবং কভার ফটোতে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলো উল্লেখ থাকতে পারে বিভিন্ন অফার উল্লেখ থাকতে পারে। এবং এই কভার ফটো কিছুদিন পরপরই পরিবর্তন করা উচিত এছাড়াও কভারে ছবি না ব্যবহার করে এনিমেশন ভিডিও ও ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এটা অনেক বেশি প্রফেশনাল। কিন্তু নতুন উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিজনেস পেইজের কভার ফটোতে ঝাপসা কোনো ছবি দেয়া অথবা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা কোনো ছবি দেয়া। যেটা দেখে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতারা আস্থা হারিয়ে ফেলে তাই সবসময় চেষ্টা করুন একটা প্রফেশনাল কভার ফটো ডিজাইন করে তা ব্যবহার করতে এবং কিছুদিন পর পর সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তা পরিবর্তন করতে। নিজে না পারলে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য এবং পরামর্শ নিন।

এবাউট সেকশন ফিলআপঃ

আপনার বিজনেস পেইজের এবাউট সেকশনে সুন্দর করে একটা ডেসক্রিপশন লিখুন আপনার বিজনেস নিয়ে। এছাড়াও এবাউট সেকশনে ঠিকানা, কন্টাক্ট নাম্বার এবং ই-মেইল অবশ্যই যুক্ত করুন, এছাড়াও অবশ্যই আপনার বিজনেসের নামের সাথে মিল রেখে একটা ইউজার নেইম যুক্ত করুন পেইজের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার পেইজের লিঙ্কটা কেমন হবে তা নির্ভর করে এই ইউজার নেইমের উপর। সতর্কতার সাথে এই এবাউট সেকশনটা কমপ্লিট করুন নিজে নিজে না পারলে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন।

টেমপ্লেট সিলেকশনঃ

ফেইসবুক পেইজে তথ্যগুলো উপস্থাপনের জন্য ফেইসবুকের বেশ কিছু টেমপ্লেট রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন ধরণের অর্গানাইজেশনের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু আমরা যারা প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস করছি তাদের উচিত শপ টেমপ্লেট সিলেক্ট করা এবং শপ টেমপ্লেট ইউজ করে আপনি খুব সহজে আপনার প্রোডাক্ট গুলো পেইজে প্রেজেন্ট করতে পারবেন। যে কেউ আপনার পেইজে প্রবেশ করেই আপনার প্রোডাক্ট গুলো মূল্য সহ দেখতে পাবে এবং ঐ প্রোডাক্টে ক্লিক করে চাইলে বিস্তারিত দেখতে পাবেন এছাড়া যারা সার্ভিস রিলেটেড বিজনেস করেন তারা ইউজ করতে পারেন সার্ভিস টেমপ্লেটটি, যা আপনার সেবা সমূহকে প্রথমেই সুন্দরভাবে ধারাবাহিকভাবে প্রেজেন্ট করবে।

টিম মেম্বার হিসেবে নিজেকে যুক্ত করুনঃ

বিজনেস পেইজে নিজের পার্সোনাল ফেইসবুক আইডিকে টিম মেম্বার হিসেবে যুক্ত করুন এতে করে মানুষ পেইজে ঢুকে এটার ওউনার কে তা দেখতে পাবে এবং আস্থা রাখতে পারবে সহজেই। কিন্তু যেসব পেইজে টিম মেম্বার এড করা থাকেনা সেটাতে অনেকেই সঙ্গত কারণে আস্থা রাখতে পারেনা কারণ ক্রেতা তখন বুঝতে পারেনা যে পেইজটির মালিক কে। তাই আজই আপনি আপনার পেইজে নিজেকে টিম মেম্বার হিসেবে যুক্ত করুন।

স্মার্ট এমাউন্ট ফলোয়ারঃ

স্বাভাবিকভাবেই আমরা যখন কোনো পেইজে ঢুকি তখন প্রথমেই দেখি পেইজে কয়টা লাইক রয়েছে বা ফলোয়ার রয়েছে এবং যদি একটা ভালো পরিমাণ লাইক থাকে তাহলে সহজেই ক্রেতা আস্থা রাখতে পারে। কিন্তু লাইক খুবই কম থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতা আস্থা হারিয়ে ফেলে। B2C বিজনেসের ক্ষেত্রে ২-১০ হাজার লাইক অন্তত পেইজে থাকা উচিত। এটা আপনি পেইজ প্রমোট করে নিয়ে আসতে পারেন বা অরগানিকলি আনতে পারেন। নিজে না পারলে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিয়ে হলেও করুন।

প্রফেশনাল কন্টেন্ট আপলোডঃ

পেইজে যেসব কন্টেন্ট আপলোড দিবেন সেটা সেল পোস্ট হোক আর নরমাল পোস্ট হোক তার টেক্সট গুলো এবং গ্রাফিক্যাল কন্টেন্ট যেনো প্রফেশনাল হয় সেদিকে নজর রাখবেন। ক্রেতা আপনার পেইজে এসে যদি আপনার কন্টেন্টগুলো নিতান্তই আনপ্রফেশনাল পায় তাহলে কিন্তু আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং আপনি ক্রেতা হারাতে থাকবেন।

পোস্টের ধারাবাহিকতা

ধরুন, এখন আগস্ট মাস চলছে আপনি কোনো একটা পেইজে কিছু কেনার জন্য প্রবেশ করলেন দেখলেন তাদের সর্বশেষ পোস্ট দেয়া এপ্রিল মাসে, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে হবে এই পেইজের কোনো একটা সমস্যা আছে অথবা তারা বিজনেস অফ করে দিয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই এখান থেকে কেনাকাটা করাটা আপনার কাছে নিরাপদ মনে হবেনা। তাই আপনার বিজনেস পেইজে নিয়মিত পোস্ট করুন এবং অডিয়েন্সের কমেন্ট এবং মেসেজের রিপ্লাই দিন।

আজ এ পর্যন্ত দুঃখিত লেখাটা একটু বেশি বড় করে ফেলার জন্য, আমি আগেও বলেছি জানতে হলে পুরোটাই ধৈর্য ধরে পড়তে হবে যেটা রাজীব স্যার সবসময়েই আমাদের বলেন।

About SABBIR mazumder

Check Also

ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সকল টুল নিয়ে নিন

ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সকল টুল নিয়ে নিন

ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সকল টুল নিয়ে নিন   all command : apt update && …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *